স্কুল কমিটিতে যুবলীগ নেতার বউকে অন্তর্ভুক্ত করতে ইউএনওর চাপ, প্রধান শিক্ষিকাকে বান্দরবানে বদলির হুমকি
স্কুল কমিটিতে যুবলীগ নেতার বউকে অন্তর্ভুক্ত করতে ইউএনওর চাপ, প্রধান শিক্ষিকাকে বান্দরবানে বদলির হুমকি
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
সোমবার, ০৩ আগষ্ট ২০২৬ ইং ০৭:০০ পিএম. কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার পূর্ব পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নীতিমালার বাইরে গিয়ে এক যুবলীগ নেতার স্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রধান শিক্ষককে এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি শিক্ষকদের। পাশাপাশি ওই যুবলীগ নেতা এক দিনের মধ্যে রেজুলেশন সম্পন্ন না করলে প্রধান শিক্ষককে বান্দরবানে বদলির হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার নাম মোঃ সাজেদুল ইসলাম মোল্লা। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ আইনুল হক মোল্লার ছেলে। মোঃ সাজেদুল ইসলাম মোল্লার স্ত্রী মোছাঃ মৌসুমী বেগমকে অবৈধভাবে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রাখার জন্য এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অথচ সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, ওই নারীর কোনো সন্তান এই বিদ্যালয়ে না পড়ায় তিনি সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক জানান, ‘ওই নারী কোনো ক্যাটেগরিতেই সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। ইউএনও নির্দেশ দেওয়ার পর যুবলীগ নেতা মোঃ সাজেদুল ইসলাম মোল্লা এসে চাপ দেন সেদিনই রেজুলেশন করার জন্য। রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষককে বান্দরবানে বদলির হুমকি দেওয়া হয়। তাঁরা দাবি করছেন স্কুলের জন্য রাস্তা দেবেন, অথচ সেই জমিটি মূলত সরকারি খাসজমি।’
প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ রিয়াজবিন বানু বলেন, ‘ইউএনও আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই বিষয়টি বিবেচনা করে দিয়েছেন।’ তবে বদলির হুমকির বিষয়ে তিনি বিশদ কিছু বলতে চাননি। অভিযোগ অস্বীকার করে যুবলীগ নেতা মোঃ সাজেদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ের জন্য জমি লিখে দিয়েছি বলেই আমার স্ত্রীকে কমিটিতে রাখা হচ্ছে। আমি কাউকে হুমকি দিইনি।’ যদিও শিক্ষকরা তাঁর জমি লিখে দেওয়ার দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। চিলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান জানান, নীতিমালার বাইরে গিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের কোনো সুযোগ নেই।
লিখিতভাবে বিষয়টি এলে কাগজপত্র যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীতিমালা ভেঙে চাপের নির্দেশনার বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমি অত কিছু জানি না। স্কুলের রাস্তা করতে হবে, এটিই হচ্ছে মূল বিষয়।’
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স